(ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পরীক্ষামূলক আপেল চাষে সাফল্য পেয়েছেন সৌখিন আপেল চাষীরা। উপজেলা কৃষি অফিসার জীবাংশু দাসের পরামর্শ ও সহযোগীতায় চড়া দামে ৬টি Summer Green জাতের আপেলের চারা নিয়ে আসেন। এর মধ্যে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের দরগা গট্টির গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস ৩টি ও মিয়ার গট্টি এলাকার আরিফ হোসেন ২টি এবং অপর একটি গাছ ফরিদপুর সদরে লাগানো হয়। এর মধ্যে গোপাল বিশ্বাসের ৩টি গাছেই চলতি মৌসুমে ফুল দেখা যায় এর মধ্যে দুটি গাছে আপেলের গুটি দেখা যায়, আরিফ হোসেনের একটি গাছে ভাল ফুল থাকলেও ফলের গুটি থাকে নাই। পরিক্ষামূলক এই আপেল চাষে সাফল্য পাওয়ায় সৌখিন অনেক ফল চাষিরাই আপেল চাষের কথা ভাবছেন।
সৌখিন ফল চাষী গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসার জীবাংশু স্যারের পরামর্শ ও সহযোগিতায় গত বছর এপ্রিল মাসে ৩টি আপেল গাছের চারা রোপণ করি, নিবিরভাবে পরিচর্চা করার পর চলতি মৌসুমে তিনটি গাছের মধ্যে দুটি গাছে ফল দেখতে পওয়া যায়, আপেল বিদেশী ফল হওয়ায় অনেক লোক আসছে। আমি আশা করছি আগামী বছর তিনটি গাছেই ফল থাকবে, ফল ভাল হলে আমি বানিজ্যিকভাবে আপেল চাষ করবো।
ফল চাষী আরিফ হোসেন বলেন, আমি বিভিন্ন ধরনের ফলের আবাদ করছি পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে আপেল গাছ লাগাই, চলতি মৌসুমে আপেল গাছে অনেক ফুল থাকলেও সব ঝরে গেছে, নতুন অবস্থায় এটা অনেক আশা জাগায়, আমি আশা করছি আগামী মৌসুমে ফল থাকবে, ফলন ভাল হলে অন্য ফলের পাশাপশি আপেল চাষ করবো।
এই বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার জীবাংশু দাস বলেন, গতবছর এপ্রিলের দিকে ৬ টি আপেল চারা (Summer Green) এনেছিলাম দিনাজপুর থেকে, পরীক্ষামূলক চাষের জন্য। উদ্দেশ্য ছিল সালথা উপজেলার কৃষিকে আরেকটু সমৃদ্ধ করা, নতুন একটি প্রযুক্তি যুক্ত করা। ঝুঁকি ছিল, কারণ নতুন ফসল মাটি ও আবহাওয়ার সাথে কতটা খাপ খায় সেটা নিয়ে একটু চিন্তিত ছিলাম। তাছাড়া দামটাও একটু বেশি। সেই চেষ্টা এখন পর্যন্ত সফল। প্রথম বছরেই ২ টি গাছে একটি করে ফল এসেছে, বাকিগুলোতেও ফুল আছে। ধীরে ধীরে আমাদের কৃষক এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আপেল চাষের ইচ্ছা আছে। সেটা করা গেলে পুষ্টিসমৃদ্ধ এ ফল বাইরে থেকে আমদানী করতে হবে না। ধন্যবাদ জানাই সৌখিন চাষীদেরকে যারা ঝুঁকি নিয়ে এ ফলটি চাষ করেছেন। উপজেলার ফল চাষীদের জন্য এটা অনেক বড় সাফল্য। কৃষি সংক্রান্ত যেকোনো সেবা ও পরামর্শের নিয়ে আমরা সার্বক্ষণিক কৃষকের পাশে আছি।
Leave a Reply